শূন্য থেকে বাংলাদেশের আইন, ১৮তম বিজেএসে দ্বিতীয় সাবা ইমা
দেশের বাইরে আইন বিষয়ে পড়াশোনা। এরপর দেশে ফিরে বাংলাদেশের আইন নতুন করে শেখা। সেই প্রস্তুতি থেকেই ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন সাবা ইমা।
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন সাবা ইমা। দেশের বাইরে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা সাবা ইমার জন্য বাংলাদেশের আইনব্যবস্থা ছিল একেবারেই নতুন। বাংলাদেশে ফিরে ২০২৪ সাল থেকে তিনি নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশের আইন পড়া শুরু করেন।
বাংলাদেশের আইনের কোনো ধারা পড়ার সুযোগ না থাকলেও তিনি ধীরে ধীরে দেশের আইনব্যবস্থার সঙ্গে নিজেকে পরিচিত করে তোলেন। একের পর এক আইন পড়া, বিষয়গুলো বোঝা এবং নিয়মিত প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে তাঁর বিজেএস প্রস্তুতি।
বাংলাদেশের আইন সম্পর্কে আগে পড়ার সুযোগ না থাকলেও নতুন করে শেখার মধ্য দিয়েই বিজেএসের প্রস্তুতি শুরু করেন সাবা ইমা।
বিদেশে আইন পড়া থেকে বাংলাদেশের আইন শেখা
সাবা ইমা ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। সেখানে তাঁর পড়াশোনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের আইনের ধারা পড়ার সুযোগ হয়নি। ফলে দেশে ফিরে বিজেএসের প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁকে বাংলাদেশের আইন নতুন করে আয়ত্ত করতে হয়েছে।
২০২৪ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশের ৩০টির বেশি আইন পড়া শুরু করেন। নতুন একটি আইনব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এই প্রক্রিয়ায় তাঁকে নিয়মিত পড়াশোনা এবং বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিতে হয়েছে।
বাংলাদেশের আইন
২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশের ৩০টির বেশি আইন পড়ার প্রস্তুতি নেন।
প্রস্তুতির শুরু
বাংলাদেশি আইন নতুন করে শেখার প্রস্তুতি শুরু করেন এই সময় থেকে।
১৮তম বিজেএস
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন।
প্রস্তুতির পথ ছিল ধারাবাহিক
বিজেএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে শুধু নতুন বিষয় পড়াই যথেষ্ট নয়। পড়া বিষয়গুলোকে বারবার ফিরে দেখা, নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
সাবা ইমার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আইন নতুন করে শেখার পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা এবং বিষয়গুলো আয়ত্তে আনার চেষ্টা তাঁর প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
বিসিএসের অভিজ্ঞতাও ছিল
বিজেএসের আগে ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষায় পররাষ্ট্র ক্যাডারে মেধাক্রম ১৭ নিয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন সাবা ইমা। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার এই অভিজ্ঞতাও পরবর্তী সময়ে তাঁর প্রস্তুতির পথে কাজে আসে।
তবে বিজেএসের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাংলাদেশের আইনকে নতুন করে আয়ত্ত করা। সেই জায়গা থেকেই নিজের প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৮তম বিজেএসে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি।
প্রস্তুতির শুরুটা যেখানে থেকেই হোক, ধারাবাহিকভাবে শেখার চেষ্টা একজন পরীক্ষার্থীকে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিতে পারে।
একটি ভিন্ন ধরনের বিজেএস যাত্রা
দেশের বাইরে আইন বিষয়ে পড়াশোনা থেকে বাংলাদেশের আইন নতুন করে শেখা—এরপর ১৮তম বিজেএসে দ্বিতীয় স্থান অর্জন। সাবা ইমার এই পথচলায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশের আইন সম্পর্কে শূন্য থেকে শুরু করেও তিনি নিজেকে প্রস্তুত করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেছেন।
